মর্নিং ও নাইট স্কিনকেয়ার রুটিন কেমন হলে স্কিন হেলদি থাকবে?

cleansing

স্কিন হেলদি ও ময়েশ্চারাইজড থাকবে, গ্লো থাকবে স্কিনে – এমন সবাই চাই। কিন্তু হেলদি স্কিন পাওয়ার জন্য যে রুটিন মেইনটেইন করতে হয় বা যে যে কাজ করতে হয়, সেগুলো একদমই করতে চাই না। তাহলে কীভাবে সম্ভব তারুণ্যদীপ্ত সুন্দর ত্বক পাওয়া? সুস্থ থাকার জন্য আমাদের যেমন স্বাস্থ্যকর খাবার খেতে হয়, তেমনই ত্বক ভালো রাখার জন্যও কিছু ইনগ্রেডিয়েন্টের প্রয়োজন হয়। আর এগুলো সব সময় খাবার থেকে পাওয়া যায় না। বিভিন্ন প্রোডাক্টে থাকা এলিমেন্টগুলো স্কিন হেলদি রাখতে সাহায্য করে। তবে সব প্রোডাক্টই আবার সব সময় ব্যবহার করা যায় না। দিন ও রাতের জন্য তাই স্কিনকেয়ার রুটিন কিছুটা আলাদা হয়। মর্নিং ও নাইট স্কিনকেয়ার রুটিন কেমন হলে ভালো থাকবে স্কিন, চলুন জেনে নেয়া যাক।

মর্নিং ও নাইট স্কিনকেয়ার রুটিন যেমন হবে

ত্বকের সুস্থতার জন্য মর্নিং ও নাইট স্কিনকেয়ার রুটিন দুটোই সমানভাবে জরুরি। কিন্তু কোন বেলায় কোন রুটিন ফলো করতে হবে তা নিয়ে শুরু হয় কনফিউশন। আবার কিছু ইনগ্রেডিয়েন্ট আছে যেগুলো একেক বেলায় একেকভাবে কাজ করে। তাই তো দিন ও রাতের ত্বকের যত্ন হতে হয় আলাদারকম।

মর্নিং স্কিনকেয়ার রুটিন

সকালে ঘুম থেকে উঠে দাঁত ব্রাশ করে মুখ ধুয়ে ফেললেই অনেকে ভাবেন তার স্কিনকেয়ার শেষ! এরপর সারাদিনের জন্য স্কিনকে যে প্রিপেয়ার করা প্রয়োজন সেটার গুরুত্বই বুঝতে পারেন না। আপনি কি জানেন দিনভর আপনার স্কিনকে কতকিছু ফেইস করতে হয়? বাইরে বের হলেই ধুলোবালি, বাতাসের সংস্পর্শে থাকা জীবাণু, ধোঁয়া, পল্যুশন, ইউভি রেডিয়েশন এমন নানা ফ্যাক্টরের কারণে ত্বক ড্যামেজ হওয়া শুরু করে। আমরা যতই চেষ্টা করি না কেন, এই এক্সটারনাল থ্রেট অ্যাভয়েড করা বেশ কঠিন। এসবের কারণে স্কিনে ফ্রি রেডিক্যাল প্রোডিউস হতে থাকে। তা থেকে স্কিনে ব্লেমিশ, সাইনস অফ এজিং এর মতো লং টার্ম প্রবলেম হয়। এসব আনএভয়ডেবল প্রবলেম যেহেতু থাকবেই, তাই সতর্ক হতে হবে নিজেদেরকেই। স্কিনকে দিতে হবে প্রোপার প্রোটেকশন।

১) ক্লিনজিং

মর্নিং ও নাইট স্কিনকেয়ার রুটিন

রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে আমরা স্কিনে কয়েক ধরনের প্রোডাক্ট অ্যাপ্লাই করি। রাতভর সেগুলো স্কিনে অ্যাবজর্ব হয়ে যায়। যেটুকু রয়ে যায় সেগুলো সকালে উঠে ধুয়ে ফেলতে হয়। তাছাড়া এক্সেস অয়েল প্রোডিউস হলে, ডার্ট জমে থাকলে সেগুলোও ক্লিন করা জরুরি। আর এজন্য ক্লিনজিং করা ইম্পরট্যান্ট। আপনার স্কিন টাইপ অনুযায়ী ক্লিনজার চুজ করে নিন। ত্বক পরিষ্কার করার পর দেখবেন বেশ ফ্রেশ লাগছে। এরপর আপনি ওয়ার্কআউট, স্ট্রেচিং, ইয়োগা করতে পারেন অথবা নিজের মতো সময় কাটাতে পারেন।

২) টোনিং

ক্লিনজিং এর পর স্কিন একদম ফ্রেশ লাগলেও পোরস ওপেন হয়ে যেতে পারে বা পিএইচ লেভেল ইমব্যালেন্স হয়ে যেতে পারে। তাই স্কিনে সুদিং ফিল দিতে এবং পিএইচ লেভেল ব্যালেন্স করতে টোনার অ্যাপ্লাই করুন। এমন টোনার বেছে নিবেন যেন সেটি লাইটওয়েট, কুইক অ্যাবজর্বিং হয়। এতে পোরস শুধু শ্রিংকই হবে না, সেই সাথে স্কিনে ময়েশ্চারও লক করবে।

৩) ফেইস সিরাম

সকালের ব্রেকফাস্ট যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনই ত্বককেও সকাল সকাল পুষ্টি প্রদান করা জরুরি। বয়স বাড়ার সাথে সাথে ত্বকের কোলাজেন প্রোডাকশন কমতে থাকে। যার কারণে রিংকেলস, ফাইন লাইনস দেখা দেয়। সেই সাথে সূর্যের ক্ষতিকর রশ্মিও ত্বকের ক্ষতি করে। তাই মর্নিং স্কিনকেয়ার রুটিনে সিরাম ইনক্লুড করতে হবে। অ্যান্টি এজিং ভিটামিন সি সিরাম বা হাইড্রেটিং হায়ালুরোনিক অ্যাসিড, যে কোনোটাই আপনি ইউজ করতে পারেন, তবে সেক্ষেত্রে কেমিক্যাল ফ্রি কিনা সেটা চেক করে নিবেন।

৪) ময়েশ্চারাইজার

সেল রিজেনারেশনের জন্য যখন ফেইসে সিরাম অ্যাপ্লাই করে ফেলেছেন, তখন ন্যাচারাল ময়েশ্চার লক করার জন্য প্রোটেক্টিভ লেয়ার হিসেবে ইউজ করতে হবে ময়েশ্চারাইজার। ভিটামিন সি, টি ট্রি এক্সট্র্যাক্ট যুক্ত ময়েশ্চারাইজার বা ক্রিম আপনি দিনে ইউজ করতে পারেন। এতে স্কিন সারাদিন থাকবে উজ্জ্বল।

ময়েশ্চারাইজার

৫) সানস্ক্রিন

মর্নিং স্কিনকেয়ার রুটিনকে কমপ্লিট করে সানস্ক্রিন। হেলদি স্কিনের জন্য এজিং সাইনস প্রিভেন্ট করা জরুরি। আর তাই দিনের বেলা অবশ্যই সানস্ক্রিন ইউজ করতে হবে। এসপিএফ ৩০ বা এর বেশি এসপিএফ যুক্ত সানস্ক্রিন বেছে নিন। তবে এসপিএফ যতই হোক না কেন, ঘরে বা বাইরে থাকাকালীন ২/৩ ঘন্টা পর পর সানস্ক্রিন অবশ্যই অ্যাপ্লাই করতে হবে।

নাইট স্কিনকেয়ার রুটিন

দিনের বেলার মতই, রাতের স্কিনকেয়ারেও অ্যাসেনশিয়াল কয়েকটি স্টেপ আছে। তবে এগুলোর মধ্যে প্রায় সবই কমন হলেও প্রধান পার্থক্য হচ্ছে বিছানায় যাওয়ার আগে এবং বিছানা থেকে ওঠার পরে। রাতে ত্বকের যত্ন নেয়া হয় স্কিন রিপেয়ার, রিস্টোরেশন ও রিজেনারেশনের জন্য।

১) ডাবল ক্লিনজিং

দিনভর ত্বকের উপর দিয়ে নানা ধকল যায়। মেকআপ, ঘাম, পল্যুশন এইসবের কারণে স্কিন ডাল হয়ে যায়। এগুলো রিমুভ করার জন্য ডাবল ক্লিনজিং জরুরি। মাইসেলার ওয়াটার বা ক্লিনজিং অয়েল দিয়ে স্কিন ভালোভাবে ক্লিন করে নিন। এরপর ত্বকের ধরন অনুযায়ী ফেইসওয়াশ দিয়ে মুখ ভালো করে ধুয়ে ফেলুন। এতে ফেইসে থাকা সকল ইমপিওরিটিস দূর হয়ে যাবে এবং ক্লগড পোরস, ব্ল্যাকহেডস বা একনে হওয়ার চান্স কমে যাবে।

২) টোনিং

ডাবল ক্লিনজিং শেষে স্কিনের ইরিটেশন কমিয়ে সুদিং ফিল দিবে টোনার। পোরসের ভিজিবিলিটি কমাতে এবং পিএইচ লেভেল ব্যালেন্স করতে হাইড্রেটিং ও স্মুদিং টোনার চুজ করুন।

নাইট টাইম স্কিনকেয়ার রুটিনে সিরামের ব্যবহার

৩) সিরাম

সিরামে নিউট্রিয়েন্ট, হাইড্রেটর ও অ্যান্টি অক্সিডেন্ট নির্দিষ্ট মাত্রায় আছে। যার কারণে স্কিনে অ্যাপ্লাই করলে দ্রুত বেনিফিট পাওয়া যায়। রাতে লাগালে লং টাইম পর্যন্ত স্কিন রিপেয়ার হওয়ার সুযোগ পায়। সেই সাথে ড্যামেজ স্কিন সেলস রিপেয়ার হয় এবং পাওয়া যায় ড্যামেজ ফ্রি স্কিন। স্কিন টাইপ বুঝে তাই আপনাকে চুজ করতে হবে আপনার জন্য বেস্ট সিরামটি।

৪) আই ক্রিম

নাইট স্কিনকেয়ার রুটিনে অনেকেই আই ক্রিমের পার্টটুকু স্কিপ করেন। ধরে নেন, ফেইস ক্রিমই আই এরিয়ার জন্য যথেষ্ট। আমাদের আই এরিয়া ফেইসের অন্যান্য অংশের চেয়ে বেশি পাতলা। যার কারণে এখানে এজিং সাইনস দ্রুত দেখা যায়। তাই রিংকেলস ও পাফিনেসকে টার্গেট করে কাজ করবে এবং আন্ডার আই এরিয়াকে ব্রাইট ও ইয়ুথফুল লুক দিবে এমন আই ক্রিম বেছে নিতে হবে।

৫) ময়েশ্চারাইজার

নাইটটাইম স্কিনকেয়ার রুটিনের ইম্পরট্যান্ট স্টেপের আরও একটি হচ্ছে ময়েশ্চারাইজিং। পুরো রুটিনে যতগুলো প্রোডাক্ট ইউজ করেছেন তার সবগুলোর ময়েশ্চার লক রাখতে একটি নারিশিং ফেইস ক্রিম বা ময়েশ্চারাইজার অবশ্যই ইউজ করতে হবে। স্কিনের ডালনেস কমাতে, স্কিনের হাইড্রেশন ধরে রাখতে, ওভারনাইট সেল রিজেনারেশন বুস্ট করতে ময়েশ্চারাইজার খুবই হেল্পফুল।

৬) লিপ মাস্ক

লিপ মাস্ক

ত্বকের সাথে সাথে ঠোঁটেরও তো যত্ন নেয়া জরুরি, তাই না? নইলে ঠোঁট শুষ্ক হয়ে যাবে, ফেটে যাবে, চামড়া উঠে আসবে। লিপস ময়েশ্চারাইজড রাখতে তাই লিপ মাস্ক ইউজ করতে হবে। চাইলে ভ্যাসলিনও লাগাতে পারেন। এতেও ঠোঁট সফট থাকবে। সকালে উঠে ফেইস ও লিপস ক্লিন থাকলে পরের স্কিনকেয়ার ও মেকআপ করাও ইজি হয়।

ত্বকের তারুণ্য ধরে রাখার জন্য হুটহাট একদিন স্কিনকেয়ার করলেই হবে না। নিয়মিত ধৈর্যের সাথে ত্বকের যত্ন নিতে হবে। সারাদিন পর ঘরে ফিরে অনেক ক্লান্ত লাগলেও ভালোভাবে স্কিন ক্লিন না করে ঘুমালে পরদিন সকালেই আয়নায় তাকিয়ে দেখবেন নিজেকে কতটা ক্লান্ত দেখাচ্ছে। আর এটা স্কিন ভালো না থাকার জন্যই। তাই ঘুমানোর আগে অন্তত ১৫ মিনিট ত্বকের যত্ন নিন। স্কিন হেলদি রাখার জন্য মর্নিং ও নাইট স্কিনকেয়ার সমানভাবে জরুরি। সেই সাথে যে প্রোডাক্টগুলো কিনছেন সেগুলো অথেনটিক কিনা তাও বুঝতে হবে। অথেনটিক সেলফ কেয়ার ও মেকআপ প্রোডাক্টস পেয়ে যাবেন চারদিকে’তে। চারিদিকে’র দুটি আউটলেট রয়েছে বসুন্ধরা সিটি শপিং মল ও নারায়ণগঞ্জ এর চাষাড়াতে আল জয়নাল ট্রেড সেন্টারে। ফিজিক্যালি কিনতে চাইলে এই দুটি আউটলেট ঘুরে আসতে পারেন। আর ঘরে বসে প্রোডাক্ট হাতে পেতে চাইলে অর্ডার করতে পারেন চারিদিকে’র ওয়েবসাইট ও অ্যাপে।

 ছবি – সাটারস্টক

3 I like it
0 I don't like it