সান ড্যামেজ থেকে সানস্ক্রিন কীভাবে ত্বককে সুরক্ষিত রাখে?

6

সকালে বের হয়ে সন্ধ্যায় বাড়ি ফিরে দেখলেন ত্বক কালচে হয়ে যাচ্ছে, স্কিনে ছোট ছোট একনে বা র‍্যাশও দেখা দিচ্ছে, আবার বেশি সময় রোদে থাকায় স্কিনে দেখা দিচ্ছে লালচে ভাব। ভাবছেন, রেগুলার স্কিন কেয়ার করার পরও এই প্রবলেমগুলো কেন হচ্ছে? আচ্ছা বলুন তো, আপনি কি বাইরে যাওয়ার আগে সানস্ক্রিন অ্যাপ্লাই করছেন স্কিনে? উত্তর যদি ‘না’ হয়, তাহলে জেনে নিন এসব সমস্যা হওয়া একদম স্বাভাবিক। সূর্যের ক্ষতিকর রশ্মি থেকে আমাদের ত্বককে সুরক্ষা দেয় সানস্ক্রিন। তাই সান ড্যামেজ থেকে ত্বককে সুরক্ষিত রাখতে দিনের স্কিনকেয়ার রুটিনে অবশ্যই সানস্ক্রিন অ্যাপ্লাই করতে হবে। সানস্ক্রিন কেন ও কীভাবে ব্যবহার করতে হবে, কোন বয়স থেকে স্কিন কেয়ার রুটিনে অ্যাড করতে হবে এবং সব ধরনের ত্বকের উপযোগী একটি সানস্ক্রিন সম্পর্কে বিস্তারিত জানাবো আজ।

সানস্ক্রিন ব্যবহার করা কেন জরুরি?

আমাদের স্কিনে যত ধরনের সমস্যা আছে, তার মধ্যে একটি হচ্ছে সান ড্যামেজ। সূর্যের ক্ষতিকর রশ্মির কারণে এই প্রবলেম হয়। এই রশ্মি আবার দুই ধরনের। UVA ও UVB রশ্মি। এই দুটো রশ্মি যেভাবে আমাদের স্কিনে ক্ষতি করে-

  • ইউভি এ রশ্মি – ত্বকের ডিপ লেয়ারে চলে যেয়ে কোলাজেন প্রোডাকশন কমিয়ে দেয়। যার কারণে দেখা দেয় প্রিম্যাচিউর এজিং সাইনস, ফাইন লাইনস।
  • ইউভি বি রশ্মি – সান ড্যামেজ হয় মূলত এই রশ্মির কারণে। আমাদের স্কিনে যে পিগমেন্টেশন বা ডার্ক প্যাচেস হয়, সেটাও এই রশ্মির কারণেই হয়।

এসব স্কিন প্রবলেম থেকে যেন ত্বক সুরক্ষিত থাকে, সেজন্য সানস্ক্রিন ব্যবহার করতে হবে।

সান ড্যামেজ

সানস্ক্রিনে এসপিএফ (SPF) ও পিএ প্লাস (PA+) কেন থাকে?

সানস্ক্রিন কেনার সময় আমাদেরকে বারবার বলা হয় এসপিএফ ও পিএ প্লাস বেশি আছে কিনা তা দেখে নিতে। সান ড্যামেজ থেকে সুরক্ষা পাওয়ার জন্য সানস্ক্রিনে এই পয়েন্টগুলো দেখে নেয়া জরুরি কেন? এসপিএফ এর অর্থ হচ্ছে সান প্রোটেকশন ফ্যাক্টর। মূলত এর উপরই ডিপেন্ড করে যে সানস্ক্রিনটি আপনি চুজ করেছেন সেটি সান ড্যামেজ থেকে আপনাকে কতটুকু সুরক্ষিত রাখবে।

একটু উদাহরণ দিয়ে বুঝিয়ে বলি। ধরা যাক, আপনার সানস্ক্রিনের এসপিএফ রয়েছে ৩৫। তাহলে আপনি ইউভি রে থেকে প্রোটেকশন পাবেন ৯৭%। আবার এসপিএফ ৫০ হলে ৯৮% এবং এসপিএফ ১০০ হলে সুরক্ষা পাবেন ৯৯%। এভাবেই এসপিএফ এর উপর নির্ভর করে সুরক্ষার বিষয়টি।

সুরক্ষা দেয় মানে যে, একবার অ্যাপ্লাই করলেই সারাদিনের প্রোটেকশন পেয়ে গেলেন ব্যাপারটি এমন নয়। এর কার্যকারিতা একটা নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত থাকে। সূর্যের আলোতে যত বেশি সময় থাকবেন, তত এর কার্যকারিতা কমতে থাকবে। তাই ২/৩ ঘন্টা পরপর অবশ্যই রিঅ্যাপ্লাই করতে হবে।

কোন বয়স থেকে অ্যাপ্লাই করতে হবে?

আমাদের অনেকের ধারণা ৩০ বছর বয়সের আগে সানস্ক্রিন অ্যাপ্লাই করার প্রয়োজন নেই। অথচ ২৫ পার হয়ে গেলেই প্রোপার স্কিন কেয়ার রুটিন না করার কারণে স্কিনের নানা সমস্যা চিহ্নিত হতে থাকে। টিনেজ বয়সে খেলাধুলা, স্কুল, কলজে, কোচিং এর মতো নানা কাজে বারবার বাইরে যেতে হয়। সূর্যের আলোতে তাই তুলনামূলভাবে বেশিই থাকা হয়। ড্যামেজের চান্সও বেশি থাকে। এজন্য টিনেজ থেকেই স্কিন কেয়ার রুটিনে সানস্ক্রিন অ্যাড করে ফেলতে হবে।

কোন বয়স থেকে সানস্ক্রিন অ্যাপ্লাই করতে হবে?

সানস্ক্রিন নিয়মিত ব্যবহারের উপকারিতা

১) এজিং সাইনস প্রিভেন্ট করে

আমরা কেউ কি চাই অল্প বয়সেই আমাদের চেহারায় রিংকেলস বা ফাইন লাইনস পড়ুক? তারুণ্যদীপ্ত ত্বক পেতে চাইলে অল্প বয়স থেকেই এসব সমস্যা প্রিভেন্ট করতে হবে। তাহলে বয়স বাড়লেও ত্বকের উজ্জ্বলতা বজায় থাকবে। আর এজন্য সানস্ক্রিন অ্যাপ্লাই করা মাস্ট!

২) স্কিন ক্যান্সারের ঝুঁকি কমায়

বেশিরভাগ স্কিন ক্যান্সার হয় আল্ট্রা ভায়োলেট রেডিয়েশনের কারণে। সানস্ক্রিন ব্যবহার করলে এই ঝুঁকি অনেকটাই কমে যায়।

৩) সানবার্ন প্রিভেন্ট করতে

সূর্যের ক্ষতিকর ইউভি রশ্মির কারণে স্কিনে এক্সেস মেলানিন তৈরি হয়। এতে স্কিনের আপার লেয়ারে ব্রাউন পিগমেন্ট দেখা দেয়। এই পিগমেন্টই সানট্যান। এই সমস্যা প্রিভেন্টের জন্য সানস্ক্রিন অ্যাপ্লাই মাস্ট!

৪) ইয়াংগার লুকিং স্কিন পেতে

স্বাস্থ্যোজ্জ্বল ত্বক পাওয়ার জন্য কোলাজেন ও ইলাস্টিনের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। এই প্রোটিনগুলোর কার্যকারিতা ও গঠনে বাঁধা দেয় ইউভি রশ্মি। দিনের বেলা সানস্ক্রিন অ্যাপ্লাই করলে ইউভি রশ্মির ক্ষতিকর প্রভাব থেকে ত্বক সুরক্ষা পায়। নিশ্চিত করে ইয়াংগার লুকিং স্কিন!

সান ড্যামেজ থেকে সুরক্ষা দিবে – এমন সানস্ক্রিন কোনটি?

সানস্ক্রিন কেন ব্যবহার করবেন, এসপিএফ কেন থাকে এমন বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আমরা আলোচনা করলাম। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, সান ড্যামেজ থেকে সুরক্ষা দিবে কোন সানস্ক্রিন? বাজারে এত সানস্ক্রিনের ভেতর থেকে কোনটি আমার জন্য ভালো হবে কীভাবে বুঝব? এবার তাহলে এই প্রশ্নের উত্তরে আসা যাক।

সান ড্যামেজ থেকে স্কিনকে সুরক্ষা দিতে সানস্ক্রিন

আমি আগে আমার কথাই বলি। সানস্ক্রিন নিয়ে আমার মেইনলি দুটো কনসার্ন ছিল। এক, সেটা হোয়াইট কাস্ট দিবে কিনা, দুই, অ্যাপ্লাই করলে ইরিটেশন হবে কিনা। কারণ আমার পূর্ব অভিজ্ঞতা একদমই ভালো ছিল না। বয়স বাড়ার সাথে সাথে স্কিন প্রবলেমও একটু একটু করে বাড়ছিল। সেজন্য স্কিন কেয়ার রুটিন প্রোপারলি শুরু করেছি। আর যেহেতু এই পার্টটা অ্যাসেনশিয়াল, তাই প্রোডাক্ট বেছে নেয়ার ক্ষেত্রেও সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে হবে। এদিক থেকে কোরিয়ান প্রোডাক্টের প্রতি আমার ভরসা আছে। আর সেই ভরসা থেকেই চারদিকে’র অ্যাপ থেকে বেছে নিলাম GFORS INTENSE CARE LIGHTWEIGHT SUN CREAM SPF 50 PA++++। চলুন জেনে নেয়া যাক এটি সম্পর্কে বিস্তারিত।

GFORS INTENSE CARE LIGHTWEIGHT SUN CREAM SPF 50 PA++++

স্কিন কেয়ার প্রোডাক্ট বেছে নেয়ার সময় সবার আগে যে প্রশ্নটি আমাদের মাথায় প্রথম আসে, সেটি হচ্ছে প্রোডাক্টটি আমাদের স্কিনে স্যুট করবে কিনা। ত্বকের ধরন বুঝে আলাদা প্রোডাক্ট বেছে নিতে হয়। এই সানস্ক্রিনটি সেদিক থেকে একদম ভিন্ন। কারণ সব ধরনের ত্বকের জন্য উপযোগী এটি। এটি নন গ্রিজি ও লাইটওয়েট, তাই স্কিনে একদমই ভারি ফিল হয় না। যদি আপনার স্কিন অয়েলি হয় বা ঘাম বেশি হয়, সেক্ষেত্রে সানস্ক্রিন অ্যাপ্লাইয়ের পর লুজ পাউডার দিয়ে সেট করে নিতে পারেন।

এই সানস্ক্রিনটির বেনিফিট

১) এই সানস্ক্রিনে রয়েছে হাইড্রোলাইজড কোলাজেন, সেন্টেলা এশিয়াটিকা এক্সট্র্যাক্ট ও সোডিয়াম হায়ালুরোনেট। এই ইনগ্রেডিয়েন্টগুলো সূর্যের ক্ষতিকর রশ্মি থেকে ত্বককে সুরক্ষা দেয় এবং ত্বকে কোলাজেন বুস্ট আপ করে। যার কারণে এজিং প্রসেস ডিলে হয়।

২) এতে অ্যান্টি ব্যাকটেরিয়াল প্রোপার্টিজ থাকায় একনে প্রন স্কিন ও ইরিটেড স্কিনেও সুদিং ফিল দিবে।

৩) সানস্ক্রিনটিতে আছে ক্যামোমাইল ফ্লাওয়ার, রোজমেরি লিফ, ক্যামেলিয়া সাইনেনসিস লিফ এর এক্সট্র্যাক্ট – যা স্কিনকে সফট ও হাইড্রেটেড রাখবে।

৪) এই সান ক্রিমে আরও আছে নিয়াসিনামাইড, যা ত্বকের উজ্জ্বলতা ধরে রাখবে।

৫) এটি একদম লাইট ওয়েট ও নন স্টিকি।

৬) ময়েশ্চারাইজিং এই সানস্ক্রিনটি কোনো ধরনের গ্রিজিনেস ও হোয়াইট কাস্ট ছাড়াই স্কিনে দ্রুত অ্যাবজর্ব হয়ে যায়।

৭) একইসাথে স্কিনে সুদিং ফিল দেয় এবং স্কিন ময়েশ্চারাইজড রাখে।

সান ড্যামেজ থেকে সুরক্ষিত রাখতে সানস্ক্রিন

যেভাবে ব্যবহার করবেন

১) বাইরে যাওয়ার অন্তত ৩০ মিনিট আগে দুই আঙুলে সানস্ক্রিন নিয়ে ফেইসে ও গলায় অ্যাপ্লাই করে নিন। ব্যবহারের আগে ময়েশ্চারাইজার এবং পরে ফেইস পাউডার অ্যাপ্লাই করে নিতে পারেন। এতে ফেইস কম ঘামবে।

২) ২/৩ ঘন্টা পর পর রিঅ্যাপ্লাই করুন।

সানস্ক্রিন নিয়ে কিছু কমন কথা

১) দিনের বেলায় বাসায় থাকলেও সূর্যের আলোর সংস্পর্শে আপনাকে আসতেই হয়। তাই ঘরে থাকলেও সানস্ক্রিন অ্যাপ্লাই করতে হবে। তাছাড়া রান্না করার সময়ও সানস্ক্রিন ব্যবহার করতে হবে।

২) মেকআপ করার শুরুতে স্কিনকেয়ার করে নিন। এরপর সানস্ক্রিন অ্যাপ্লাই করার প্রাইমার লাগিয়ে নিন। এরপর বাকি প্রোডাক্ট অ্যাপ্লাই করুন।

৩) সানস্ক্রিন ইউজ করে যদি বেনিফিট না পান তখন বুঝতে হবে কোথাও মিসটেক হচ্ছে। টাইমলি রিঅ্যাপ্লাই না করলে এমন হতে পারে। সানস্ক্রিন রিঅ্যাপ্লাই করার জন্য মেকআপ ওয়াইপস দিয়ে ফেইস মুছে নিয়ে অথবা নরমাল পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে হালকা করে মুছে আবারও লাগিয়ে নিন।

৪) রাতে বাড়ি ফিরে অবশ্যই ডাবল ক্লিনজিং করবেন।

সানস্ক্রিন

সানস্ক্রিন নিয়ে আমাদের অনেকের মাঝেই অনেক কনফিউশন আছে। আশা করি অনেকখানি কনফিউশন ক্লিয়ার হয়েছে আজকের এই আর্টিকেলের মাধ্যমে। আপনি যদি স্কিনকেয়ার রুটিনে এখনও সানস্ক্রিন অ্যাড না করে থাকেন, তাহলে আজই করে ফেলুন! চারিদিকে’র দুটি আউটলেট রয়েছে বসুন্ধরা সিটি শপিং মল ও নারায়ণগঞ্জ এর চাষাড়াতে আল জয়নাল ট্রেড সেন্টারে। ফিজিক্যালি কিনতে চাইলে এই দুটি আউটলেট ঘুরে আসতে পারেন। আর ঘরে বসে প্রোডাক্ট হাতে পেতে চাইলে অর্ডার করতে পারেন চারিদিকে’র ওয়েবসাইট ও অ্যাপে।

ছবি – চারদিকে, সাটারস্টক

1 I like it
0 I don't like it