মাইসেলার ওয়াটার ব্যবহারের ইফেক্টিভ উপায়গুলো কী কী?

skin cleansing

সারাদিন পর ঘরে ফিরে মেকআপ ও ডার্ট রিমুভ করার জন্য ফেইস ক্লিন করা আবশ্যক। আপনি সেটা করছেনও, কিন্তু আপনি কি শিওর সব ডার্ট ও মেকআপ পার্টিকেলস খুব ভালোভাবে রিমুভ হয়ে যাচ্ছে? এই সন্দেহ যেন না থাকে, তাই স্কিন কেয়ার রুটিনে অ্যাড করুন মাইসেলার ওয়াটার। যারা রেগুলার স্কিনকেয়ার করেন, তারা জানেন এটি একটি মাস্ট হ্যাভ প্রোডাক্ট। আজ আপনাদের জানাবো মাইসেলার ওয়াটার কী, কেন এটি ত্বকের জন্য ভালো এবং এটি ব্যবহারের ইফেক্টিভ বিভিন্ন উপায় সম্পর্কে।

মাইসেলার ওয়াটার কী?

মাইসেলার ওয়াটার একটি লিকুইড ক্লিনজার। এতে রয়েছে খুব ছোট ছোট মাইসেল মলিকিউলস যেগুলো পানিতে দ্রুত মিশে যায় এবং তেলকে অ্যাট্রাক্ট করে। মাত্র কয়েক সোয়াইপেই অয়েল, মেকআপ পার্টিকেলস, ডার্ট, ইমপিওরিটিস দূর করতে এটি খুব ভালো কাজ করে। এতে থাকা পানি, অল্প পরিমাণে গ্লিসারিন ও সারফেকটেন্টের মাইল্ড কনসেন্ট্রেশন ডার্ট রিমুভ করতে সাহায্য করে। মাইসেলার ওয়াটার ইউজ করার পর আলাদাভাবে মুখ ধোয়ার দরকার নেই কারণ এটি স্কিনে দ্রুত অ্যাবজর্ব হয়ে টোনারের মতো কাজ করে।

মাইসেলার ওয়াটার

ত্বকের জন্য কি উপকারী?

মাইসেলার ওয়াটার বেশ মাইল্ড, হাইড্রেটিং, নন-অ্যালকোহলিক ও অয়েল-কেমিক্যাল ফ্রি। এতে এমন কোনো হেভি সোপ ম্যাটারিয়াল বা ক্লিনজিং এজেন্ট নেই যেগুলো স্কিনের ন্যাচারাল অয়েল ধুয়ে ফেলবে, স্কিন ড্রাই করে ফেলবে বা একনে ব্রেকআউট হবে। এটা স্কিনের জন্য খুবই জেন্টল এবং কোনো ধরনের ড্যামেজ হয় না।

ক্লিনজিং এর কাজ করলেও এটিতে এমন কোনো ইনগ্রেডিয়েন্ট নেই যেগুলো মেকআপ পরিপূর্ণভাবে ক্লিন করতে পারবে। এটা প্রি-ক্লিনজার হিসেবে কাজ করে। এটি ব্যবহারের পর অবশ্যই ফেইসওয়াশ বা ক্লিনজার, টোনার এগুলো ব্যবহার করতে হবে। এটি মূলত ডাবল ক্লিনজিং এর ফার্স্ট স্টেপে ইউজ হয়।

ব্যবহারের উপকারিতা

মাইসেলার ওয়াটার ব্যবহারের বেশ কিছু উপকারিতা রয়েছে। যেমন-

১) মেকআপ ও ডার্ট ক্লিন করে

এটি খুব ভালো একটি ক্লিনজার হিসেবেও কাজ করে। তাই কোনোরকম ঝামেলা ছাড়াই মেকআপ তুলে ফেলতে বেশি বেগ পেতে হয় না। এটি ব্যবহারে ত্বকের এক্সট্রা সিরাম বা অয়েল রিমুভ হয়ে যায়। ব্যবহারের পর পরবর্তী স্কিন কেয়ারের জন্য স্কিন প্রিপেয়ার হয়।

২) একনে ব্রেকআউট কমায়

পোরস ব্লক হওয়া মানেই একনে ব্রেকআউটের চান্স বেড়ে যাওয়া। মাইসেলার ওয়াটারের সবচেয়ে বড় সুবিধা হচ্ছে এটি একদম মাইল্ড ওয়েতে ডার্ট, ইমপিওরিটিস ক্লিন করে। যার কারণে পোরসও থাকে ক্লিন, ক্লগড হয় না। একনে প্রবলেম দূর করার জন্য যে ফেইসওয়াশ ইউজ করা হবে সেটির পাশাপাশি মাইসেলার ওয়াটারও স্কিন কেয়ার রুটিনে অ্যাড করতে হবে।

৩) হাইড্রেশন ধরে রাখে

মাইসেলার ওয়াটারে ইউজ করা ইনগ্রেডিয়েন্টগুলো মাইল্ড হওয়ার কারণে স্কিন রুক্ষ হয় না, বরং থাকে হাইড্রেটেড, হেলদি ও ময়েশ্চারাইজড।

হাইড্রেটেড স্কিনের জন্য মাইসেলার ওয়াটার

৪) এটি ব্যবহারের পর মুখ ধুতে হয় না

ফেসিয়াল ক্লিনজার ব্যবহারের পর অনেক সময় ফেইসে অয়েলি বা গ্রিজিভাব থেকে যেতে পারে। তখন আবারও মুখ ধুতে হয়। মাইসেলার ওয়াটার ব্যবহারে সেই সমস্যা নেই। এটি ব্যবহারের পর মুখ ধুতে হয় না।

৫) নন-ইরিটেটিং

এটা নন-ইরিটেটিং। এতে এমন কোনো কেমিক্যাল নেই, যেগুলোর কারণে চোখে জ্বালা করবে, রেডনেস হবে অথবা চোখে পানি আসবে। ওয়াটার ও গ্লিসারিন ফর্মুলায় তৈরি বলে এটি সেনসিটিভ স্কিনের জন্যও পারফেক্ট। এটি কোনো এক্সফোলিয়েন্ট নয় বা এতে অ্যালকোহল থাকে না বলে ইনফ্ল্যামেশন হয় না। যার কারণে স্কিনও ড্রাই হয় না।

৬) সময় বাঁচায়

মাত্র কয়েক সোয়াইপেই মেকআপ উঠে আসে। এটা সময় বাঁচায়। শোয়ার আগে দ্রুত ফেইস ক্লিন করা যায় বলে বাকি স্কিন কেয়ার স্টেপ শুরু করতেও সময় লাগে না।

ইফেক্টিভলি ব্যবহার করবেন যেভাবে

১) সকালে ক্লিনজার হিসেবে ব্যবহার করা

স্কিন এক্সপার্টদের মতে, দিনে অন্তত দুইবার ডাবল ক্লিনজিং করা উচিত। একবার সকালে এবং একবার রাতে শোয়ার আগে। অনেকেই এই প্রসেসকে জটিল ভাবতে পারেন। তবে মাইসেলার ওয়াটার থাকতে একদম চিন্তার কিছু নেই। এটি স্কিনে দ্রুত অ্যাবজর্ব হয়ে যায় এবং পরিষ্কার করে। রাতে ঘুমানোর আগে যদি আপনি মুখে সিরাম, কোনো প্যাক বা ক্রিম ব্যবহার করেন, তাহলে সকালে উঠে মুখ ধোয়ার আগে একবার এটি দিয়ে ফেইস ক্লিন করে নিবেন।

ক্লিনজার হিসেবেও মাইসেলার ওয়াটার ইউজ করা যায়

২) স্কিন টোনিং করতে

আপনি চাইলে মেকআপ রিমুভার আলাদাভাবে ব্যবহার করতে পারেন, তবে এর পর মাইসেলার ওয়াটার ব্যবহার করতে হবে। মেকআপ ক্লিন করার পর এটি টোনার হিসেবেও কাজ করে।

৩) মেকআপ রিমুভার হিসেবে

মাইসেলার ওয়াটারের সবচেয়ে জরুরি ইউজ হয় মেকআপ রিমুভার হিসেবে। একটি কটন প্যাডে লিকুইড ঢেলে ফেইস ওয়াইপ করে নিন। মেকআপ যদি হেভি হয়, তাহলে কয়েকবার ওয়াইপ করতে হবে। মেকআপ, ডার্ট ও পল্যুশন ক্লিয়ার করার এটাই সবচেয়ে সেইফ ও হার্মলেস ওয়ে।

৪) রিফ্রেশ লাগতে

বাইরে বের হওয়ার পর যদি বেশি গরম লাগে বা মেকআপ হেভি লাগে, তাহলে মাইসেলার ওয়াটার বেশ কাজে আসতে পারে। একটি কটন প্যাডে লিকুইড ঢেলে টি জোনে ড্যাব ড্যাব করে নিন। এতে স্কিন ইন্সট্যান্টলি হাইড্রেট হবে এবং রিফ্রেশিং ফিল দিবে।

৫) মেকআপ বা সানস্ক্রিন রিঅ্যাপ্লাই করার আগে

মাইসেলার ওয়াটার ব্যবহারের আরও একটি সুবিধা হলো এটি বাইরে ক্যারি করা যায়। যেহেতু এটি ব্যবহারে পানির প্রয়োজন নেই, তাই বাইরে থাকলে ক্লিনজারের বদলে এটি ব্যবহার করতে পারবেন। বাইরে যদি টাচ আপের প্রয়োজন হয় বা সানস্ক্রিন রিঅ্যাপ্লাই করতে হয়, তাহলে কটন প্যাডে লিকুইড ঢেলে ফেইস ক্লিন করে আবারও রিঅ্যাপ্লাই প্রসেস শুরু করতে পারেন।

৬) মেকআপ মিসটেকস ফিক্স করতে

মেকআপ করার সময় প্রায়ই আইলাইনার, লিপলাইনার বা লিপস্টিক ছড়িয়ে যায়। আবার মাশকারা শুকানোর আগেই ফেইসে লেগে যেতে পারে। দেখা গেলো আউটফিটের সাথে ম্যাচ করে যে আই মেকআপ করেছেন, সেটা ভালো লাগছে না। এসব সমস্যা হলে কী করবেন? স্কিনে জোরে জোরে রাব না করে কটনপ্যাডে মাইসেলার ওয়াটার নিয়ে নিন। এরপর যে জায়গাগুলো ফিক্স করতে হবে সেখানে জেন্টলি রাব করুন। ক্লিন হয়ে গেলে আবারও অ্যাপ্লাই করে নিন।

গার্নিয়ার মাইসেলার ওয়াটার

মাইসেলার ওয়াটার কী, কেন এটি ত্বকের জন্য উপকারী, কীভাবে ও কখন ব্যবহার করবেন এমন বিভিন্ন তথ্য সম্পর্কে জানিয়ে দিলাম আজ। কারও যদি এই প্রোডাক্ট ব্যবহার করা নিয়ে কোনো কনফিউশন থেকে থাকে, আশা করি আজ সেটা অনেকটাই ক্লিয়ার হয়েছে। প্রোপার ওয়েতে স্কিন ক্লিন করতে এবং সুদিং, হাইড্রেটিং ও রিফ্রেশিং ফিল পেতে আপনিও তাহলে স্কিনকেয়ার রুটিনে আজই অ্যাড করে নিন এই প্রোডাক্টটি। অথেনটিক সেলফ কেয়ার ও মেকআপ প্রোডাক্টস পেয়ে যাবেন চারদিকে’তে। চারিদিকে’র দুটি আউটলেট রয়েছে বসুন্ধরা সিটি শপিং মল ও নারায়ণগঞ্জ এর চাষাড়াতে আল জয়নাল ট্রেড সেন্টারে। ফিজিক্যালি কিনতে চাইলে এই দুটি আউটলেট ঘুরে আসতে পারেন। আর ঘরে বসে প্রোডাক্ট হাতে পেতে চাইলে অর্ডার করতে পারেন চারিদিকে’র ওয়েবসাইট ও অ্যাপে।

ছবি – চারদিকে, সাটারস্টক

2 I like it
0 I don't like it