ধাপে ধাপে মেকআপ | বিগিনারদের জন্য ইজি মেকআপ গাইডলাইন

makeup

‘আমি তো একদমই মেকআপ করতে পারি না’, ‘মেকআপ প্রোডাক্ট সম্পর্কে কিছুই জানি না’, ‘মেকআপ করি না, কিন্তু কোথাও যাওয়ার সময় মনে হয় কিছুটা মেকআপ জানা থাকলে মন্দ হতো না’ – এমন কথা আমরা মেয়েরা প্রায়ই বলি। মেকআপ করা মানে চেহারা একদম বদলে ফেলা নয়। বরং লুক ফ্ললেস হয় বলে নিজের ভেতর কনফিডেন্স তৈরি হয়। যে কোনো জায়গায় নিজেকে কনফিডেন্টের সাথে প্রেজেন্ট করা যায়। কিন্তু যারা নতুন মেকআপ করছেন, করা শিখতে চাচ্ছেন, অথবা প্রোডাক্টের ব্যবহার সম্পর্কে বুঝতে চাচ্ছেন তাদের অনেকেই বেশ কনফিউজড হয়ে যান নানা বিষয়ে। হয়ত যেমনটি চাচ্ছিলেন তেমন হলো না, মেকআপ ফ্ললেস হলো না, আর এসব কারণে মন খারাপ হয়ে গেলো। আজ আপনাদের বিগিনারদের জন্য ইজি মেকআপ গাইডলাইন অর্থাৎ ধাপে ধাপে মেকআপ করার উপায়গুলোই জানাবো। চলুন তাহলে শুরু করা যাক।

ধাপে ধাপে মেকআপ

অনেকেই মেকআপ করাকে বেশ টাফ ভাবেন। এর অন্যতম একটি কারণ হতে পারে প্রোপারলি মেকআপ প্রোডাক্টস স্কিনে স্যুট না হওয়া। হয়ত মেকআপ ভেসে থাকছে, অল্প সময়ের মধ্যে ক্র্যাক হয়ে যাচ্ছে, ফেইস অয়েলি যাচ্ছে। এসব প্রবলেম ফেইস করলেই আমরা ভাবতে থাকি, প্রোডাক্ট ভালো না অথবা আমরাই মেকআপ করতে পারছি না। কারণ দুটোই হতে পারে। এজন্য সবার আগে আপনাকে বেছে নিতে হবে বেস্ট মেকআপ প্রোডাক্টগুলো। এতে স্কিন ভালো থাকবে। আর মেকআপ করতে না পারার যে ভয়, সেটি আজ আমি দূর করে দিচ্ছি। চলুন তাহলে ধাপে ধাপে মেকআপ কীভাবে করবেন, তা জানা যাক।

১) স্কিন প্রিপেয়ার 

মেকআপ শুরুর প্রথম ধাপ হচ্ছে স্কিন প্রিপেয়ার করে নেয়া। আপনি যদি ফ্ললেস লুক ক্রিয়েট করতে চান তাহলে শুরুতেই ত্বক পরিষ্কার করে নিতে হবে। মাইসেলার ওয়াটার বা ক্লিনজিং অয়েল দিয়ে ফেইস ভালোভাবে ক্লিন করে নিয়ে ফেইসওয়াশ দিয়ে ধুয়ে নিন। এতে আপনার ত্বকে থাকা ডার্ট, পল্যুটেন্ট দূর হয়ে যাবে। এরপর পিএইচ লেভেল ব্যালেন্স করবে এমন একটি টোনার অ্যাপ্লাই করে নিন। টোনার পোরস টাইট করে এবং স্কিন টেক্সচার ইমপ্রুভ করে। এরপর ত্বকের ধরন অনুযায়ী ময়েশ্চারাইজার অ্যাপ্লাই করে নিন। এতে আপনার ত্বক ময়েশ্চারাইজড থাকবে এবং মেকআপ প্রোডাক্ট ইজিলি অ্যাপ্লাই করা যাবে।

২) প্রাইমার

ধাপে ধাপে মেকআপ করার ফার্স্ট স্টেপে প্রাইমার অ্যাপ্লাই করতে হবে  

আপনি যদি চান, আপনাকে দেখতে ফ্ললেস লাগবে এবং দীর্ঘ সময়ের জন্য মেকআপ ভালো থাকবে, মেল্ট হবে না – তাহলে প্রাইমার একদমই স্কিপ করা যাবে না। ধাপে ধাপে মেকআপ শুরুর সময়েই এটি অ্যাপ্লাই করে নিতে হবে। প্রাইমার ফেইসের পোরস ব্লার করে এবং ফাইন লাইনস স্মুথ করে স্কিনকে করে তোলে ক্যানভাসের মতো। যার কারণে মেকআপ করাও সহজ হয়।

৩) ফাউন্ডেশন 

প্রাইমারের পর অ্যাপ্লাই করতে হবে ফাউন্ডেশন। ফ্ললেস লুক ও ইভেন স্কিন টোনের জন্য ফাউন্ডেশন মাস্ট হ্যাভ! তবে হ্যাঁ, ফাউন্ডেশন অ্যাপ্লাই করার আগে অ্যাকচুয়াল স্কিনটোনের সাথে ম্যাচ করে এমন শেইড চুজ করতে হবে। শেইড ভুল হলে দেখতে একদমই ভালো লাগবে না। ফাউন্ডেশন পারচেজ করার সময় স্কিনটোনের সাথে যে শেইডটি সবচেয়ে কাছাকাছি ম্যাচ করবে সেটি চুজ করবেন। শেইড সিলেক্ট করার সময় যখন ফাউন্ডেশন সোয়াচ করতে বলা হয়, তখন গালে বা চিন এরিয়াতে সোয়াচ করুন। এতে শেইড বোঝা সহজ হবে। একেক ধরনের স্কিন টাইপ ও স্কিন কনসার্নের জন্য ফাউন্ডেশনের ফর্মুলা ডিফারেন্ট হয়ে থাকে। তাই আপনার স্কিনে একনে, পিগমেন্টেশন, ফাইন লাইনস আছে কিনা সেসব দেখে ও বুঝে ফাউন্ডেশন চুজ করুন।

৪) কনসিলার

ধাপে ধাপে মেকআপ এর পরের স্টেপ হচ্ছে কনসিলার অ্যাপ্লাই করা। আমাদের ফেইসের যেসব জায়গায় ইমপারফেকশন আছে, সেগুলো কভার করে এই কনসিলার। আন্ডার আই এরিয়া, পিম্পল বা একনে স্পট ইত্যাদি খুব সহজেই এর সাহায্যে ঢেকে ফেলা যায়। কনসিলারের ফর্মুলা ফাউন্ডেশনের চেয়ে বেশ খানিকটা ঘন হয় এবং কভারেজের কারণে ইমপারফেকশনগুলো সহজে ঢেকে যায়। তাছাড়া পরিমাণেও কম লাগে। ফেইসের যেসব জায়গা কভার করতে চান, সে জায়গাগুলোতে কনসিলার অ্যাপ্লাই করে ভালোভাবে ব্লেন্ড করে নিন। যদি ব্লেন্ড করতে প্রবলেম হয় তাহলে স্পঞ্জে একটু সেটিং স্প্রে দিয়ে নিন। এতে ব্লেন্ডিং ভালো হবে।

৫) ব্লাশ

ব্লাশ অ্যাপ্লাই

ফেইসে যদি একটু কালার অ্যাড করতে চান, তাহলে ব্লাশ খুব ভালো একটি অপশন। এটি ফেইসে হেলদি গ্লো এনে দিবে। আপনি চাইলে ন্যাচারাল পিংক শেইড ব্যবহার করতে পারেন, অথবা নিজের পছন্দমত যে কোনো কালারও চুজ করতে পারেন। তবে চুজ করার আগে খেয়াল রাখবেন সেটি যেন অবশ্যই আপনার স্কিন টাইপ হয় এবং ন্যাচারাল স্কিন টোনের সাথে ম্যাচ করে।

৬) আইশ্যাডো

ধাপে ধাপে মেকআপ এর শেষের দিকে আমরা চলে এসেছি। এবার পালা আইশ্যাডো দেয়ার। স্কিনটোনের সাথে মিলিয়ে আইশ্যাডো আইলিডে অ্যাপ্লাই করলে বেইজ সুন্দর হয়। এতে চোখের আনইভেন স্কিনটোন ঢেকে যায়। অর্থাৎ নিউট্রাল কালার দিয়ে বেইজ ক্রিয়েট করে নিলে পরবর্তীতে অন্য যে কোনো কালারের আইশ্যাডো ব্লেন্ড করা ইজি হয়। তাই যে আইশ্যাডো প্যালেটটি চুজ করবেন সেটিতে আপনার স্কিনটোনের সাথে মানানসই বেইজ কালার আছে কিনা সেটি আগে দেখে নিবেন।

৭) আইলাইনার, কাজল ও মাশকারা

আইশ্যাডো দেয়া হয়ে গেলে এবার আইলাইনার অ্যাপ্লাই করে নিন। আপনি চাইলে উইং বা সিম্পল লাইন ড্র করতে পারেন। এতে চোখ বড় ও ব্রাইট দেখাবে। এরপর কাজল ও মাশকারা লাগিয়ে নিন। এতে ল্যাশ ঘন দেখাবে। চোখের সৌন্দর্য ফুটে উঠবে শতভাগ। আপনি চাইলে কাজল স্কিপ করতে পারেন। এটা যার যার পারসোনাল চয়েস।

৮) লিপস্টিক

ধাপে ধাপে মেকআপ এর লাস্ট পার্ট হচ্ছে লিপস্টিক অ্যাপ্লাই করা। লিপস্টিক দেয়ার আগে লিপ লাইনার দিয়ে শেইপ ক্রিয়েট করে নিন। এতে লিপস্টিক দেয়ার সময় ছড়াবে না। যে লিপস্টিক লাগাবেন, চেষ্টা করুন সেই সেইম শেইডের লাইনার চুজ করতে। এতে আউটলাইন ন্যাচারাল দেখাবে এবং লিপস ফুলার দেখাবে।

লিপস্টিক অ্যাপ্লাই

৯) সেটিং স্প্রে

মেকআপ লুক কমপ্লিট হয়ে গেলে এবার সেটিং স্প্রে দিয়ে নিন। এতে লুক ফ্ললেস তো দেখাবেই, সেই সাথে স্কিন হাইড্রেটেডও থাকবে দীর্ঘ সময় পর্যন্ত। তাছাড়া ব্যাগে ক্যারি করলেও বাইরে যে কোনো সময়ও ফেইসে অ্যাপ্লাই করে নিতে পারবেন।

বিগিনারদের মেকআপ বিষয়ক কমন কিছু প্রশ্ন

যারা নতুন নতুন মেকআপ করছেন, তারা নানা সময়ই কিছু কমন প্রশ্নের সম্মুখীন হন। এমন কয়েকটি প্রশ্ন ও উত্তর সম্পর্কে জানিয়ে দিচ্ছি-

১) মেকআপের শুরুতে প্রাইমার লাগানো কি খুব জরুরি?

হ্যাঁ। কারণ প্রাইমার মেকআপকে দীর্ঘ সময় সেট রাখতে সাহায্য করে। এটি স্কিনে প্রোটেক্টিভ ব্যারিয়ার ক্রিয়েট করে। মেকআপ লুক ফ্ললেস হবে কি হবে না, তার অনেকটাই ডিপেন্ড করে প্রাইমারের উপর।

২) ময়েশ্চারাইজার নাকি প্রাইমার – কোনটি আগে?

মেকআপ অ্যাপ্লিকেশনের ফার্স্ট স্টেপ প্রাইমার। আর প্রাইমারের আগে স্কিন ক্লিন করে লাগিয়ে নিতে হয় ময়েশ্চারাইজার। এতে স্কিন হাইড্রেটেড থাকে, মেকআপ ইফেক্টিভলি অ্যাপ্লাই করা যায়।

৩) প্রাইমার ছাড়া কি ফাউন্ডেশন ইফেক্টিভ হবে?

যদি প্রাইমার অ্যাপ্লাই করা না হয়, তাহলে ফাউন্ডেশন অল্প সময়েই ক্রিজ হয়ে যেতে পারে। ফাইন লাইনস, পোরস ভিজিবল হতে পারে। এতে মেকআপ করার পর লুক একদমই ভালো লাগবে না। তাই স্কিন ড্রাই বা কেকি কোনোটাই যেন না হয়, সেজন্য প্রাইমারের পর ফাউন্ডেশন অ্যাপ্লাই করতে হবে।

বিগিনারদের জন্য ইজি মেকআপ গাইডলাইন

বিগিনারদের জন্য ইজি মেকআপ গাইডলাইন কেমন হবে সেটি জানিয়ে দিলাম আজকের আর্টিকেলে। ধাপে ধাপে মেকআপ করা এখন নিশ্চয়ই আর কঠিন লাগছে না, তাই না? আপনার যদি মেকআপ শুরু করা নিয়ে কনফিউশন থাকে, সেটি আশা করি অনেকটাই কমে গিয়েছে। তাহলে আর দেরি কেন? আজ থেকেই শুরু হোক মেকআপ করা আর ফিরিয়ে আনুন নিজের কনফিডেন্স। বিভিন্ন ব্র্যান্ডের মেকআপ, স্কিন ও হেয়ার কেয়ার প্রোডাক্ট পেয়ে যাবেন চারদিকে’তে।   চারিদিকে’র দুটি আউটলেট রয়েছে বসুন্ধরা সিটি শপিং মল ও নারায়ণগঞ্জ এর চাষাড়াতে আল জয়নাল ট্রেড সেন্টারে। ফিজিক্যালি কিনতে চাইলে এই দুটি আউটলেট ঘুরে আসতে পারেন। আর ঘরে বসে প্রোডাক্ট হাতে পেতে চাইলে অর্ডার করতে পারেন চারিদিকে’র ওয়েবসাইট ও অ্যাপে।

ছবি – সাটারস্টক, চারদিকে

5 I like it
0 I don't like it